মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

অবসরে যাচ্ছেন স্বর্ণপদক জয়ী ইঁদুর মাগাওয়া

ডেস্ক রিপোর্ট: / ৮২ বার পঠিত
সময় : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তার নাম মাগাওয়া। বাড়ি আফ্রিকায় হলেও কর্মস্থল ছিল কম্বোডিয়ায়। কর্মজীবনে এসেছে একের পর এক সফলতা। বীরত্বের জন্য জুটেছে স্বর্ণপদকের মতো সম্মাননাও। এখন অবসরে যেতে হচ্ছে তাকে। স্বাভাবিকভাবেই যে কারও মনে হবে পেশাগত জীবনে সফল কোনো ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ হচ্ছে এক ইঁদুরের গল্প। । দেশটিতে মাটিতে পুঁতে রাখা মাইন শনাক্ত করে অনেকের চোখে সম্মানের স্থানে আছে এ ইঁদুর।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরে ৭১টি মাইন এবং অনেক বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত করে অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে মাগাওয়া। এ জন্য স্বর্ণপদকও দেওয়া হয়েছে এই ইঁদুরকে। তবে সাত বছর বয়সী আফ্রিকান এ প্রাণীকে এখন অবসরে যেতে হচ্ছে। মাইন শনাক্তের কাজে তার বদলে যুক্ত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী ইঁদুর।

মাগাওয়াকে দেখভালকারী মালেন বলেন, বৃহদাকার আফ্রিকার ইঁদুরটি এখন ধীরগতির হয়ে পড়েছে। সে এখন বয়স্ক হয়ে গেছে। তার চাওয়া-পাওয়াকে এখন সম্মান জানানো প্রয়োজন।

কম্বোডিয়াজুড়ে আনুমানিক ৬০ লাখ মাইন পুঁতে রাখা আছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। সেসব মাইন শনাক্তের কাজে আফ্রিকার তাঞ্জেনিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে নিয়ে আসা হয় মাগাওয়াকে। বেলজিয়ামে নিবন্ধিত তাঞ্জেনিয়াভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাপোপোতে অনেকগুলো ইঁদুরকে মাইন শনাক্তের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ১৯৯০ সাল থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া এসব ইঁদুরকে বলা হয় ‘হিরো র‍্যাটস’। মাগাওয়া ছিল সেসব সাহসী ইঁদুরের একটি। কম্বোডিয়ায় মাইন সরানোর কাজে যুক্ত কম্বোডিয়ান মাইন অ্যাকশন সেন্টারের (সিএমএসি) অধীনে কাজ করত মাগাওয়া। সে অবসরে যাওয়ায় সিএমএসিকে প্রশিক্ষিত নতুন একদল ইঁদুর সরবরাহ করেছে অ্যাপোপো। তবে অবসরে গেলেও আরও কিছুদিন থাকতে হচ্ছে মাগাওয়াকে। দাতব্য সংস্থাটি জানায়, নতুন ইঁদুরগুলোর ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে আরও কয়েক সপ্তাহ কাজ করবে সে। কম্বোডিয়ার পরিবেশে নতুনদের খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে মাগাওয়া। মালেন বলেন, ‘দক্ষতার দিক দিয়ে এখন পর্যন্ত মাগাওয়ার সমপর্যায়ের কেউ নেই। তার সঙ্গে থেকে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।’ ইঁদুরটির ওজন ১ দশমিক ২ কেজি এবং লম্বায় ৭০ সেন্টিমিটার। অন্যান্য প্রজাতির ইঁদুর থেকে বেশ বড়সড় মাগাওয়া। এরপরও এ ওজন নিয়েই কোনো মাইনের ওপর হেঁটে গেলে সেটি বিস্ফোরিত হয় না।

অ্যাপোপো বলছে, টেনিস খেলার একটি মাঠের সমান কোনো জায়গায় মাইন আছে কি না, মাত্র ২০ মিনিটের ভেতরে বের করে ফেলতে পারে মাগাওয়া। সে কাজটি একটি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কোনো মানুষকে করতে এক থেকে চার দিন লাগবে।

মানুষের প্রাণ বাঁচানোর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ গত সেপ্টেম্বরে মাগাওয়া পিডিএসএ স্বর্ণপদক অর্জন করে। প্রাণীদের সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য এ স্বর্ণপদক দেওয়া থাকে। এ সম্মাননাকে বলা হয় প্রাণীদের জন্য জর্জ ক্রস পদক । সাহসিকতার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সর্বোচ্চ পদক জর্জ ক্রস।

অ্যাপোপোর ৭৭ বছরের ইতিহাসে মাগাওয়াই প্রথম প্রাণী, যে পিডিএসএ পদক অর্জন করে।

 


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD