শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০২ অপরাহ্ন

কী বেশি ভয়ংকর করোনা, সাপ না মশা ?

এম এস সিরাজ: / ৩৩ বার পঠিত
সময় : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা ভাইরাস না সাপ না মশা কী বেশি ভয়ঙ্কর ? সম্প্রতি সময়ে যে কোন মানুষকে এ প্রশ্ন করা হলে উত্তর মিলবে সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর হচ্ছে করোনা ভাইরাস, দ্বিতীয় সাপ, তৃতীয় মশা। আসলে কি তাই? পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণী হচ্ছে মশা।

সম্প্রতি সময়ে করোনা ভাইরাস পৃথিবী নাড়িয়ে দিয়েছে। এর ভয়াবহতা দেখেছে কোটি কোটি মানুষ। নাম শুনেই আঁতকে ওঠে অনেক মানুষ। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ২২ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার ৭শত ৮৯ জন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের পর সুস্থ হয়েছে ২২ কোটি ২১ লাখ ৩৯ হাজার ২ শত ৮২ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩ শত ৮২ জন। মাত্র! মাত্র কেন? মশার তুলনায় মাত্র।

সাপকে ভয়ঙ্কর বলা না বলা নিয়েই আছে বিতর্ক। পৃথিবীতে ২৯০০ প্রজাতির সাপ আছে। গোটা পৃথিবীতে সারা বছরে সাপের কামড়ে ৮১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায়। যার অর্ধেক ভারতেই। বোরা বা ভাইপার সাপের কামড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়।

মশা এমন একটি ভয়ঙ্কর প্রাণী পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ২০০ কোটি মানুষ মরেছে শুধু মশার কারণে। এ সংখ্যাটি পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত মানুষ বসবাস করেছে তার প্রায় অর্ধেক। মশাকে তাই উইনগার্ড ‘পৃথিবীর ধ্বংসকারী’ এবং ‘ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মুখপাত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মশার সঙ্গে লড়াই করেই এখনো বেঁচে আছে মানবপ্রজাতি। বর্তমানকালে শুধু আফ্রিকাতেই প্রতিবছর প্রায় আট লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে মশাবাহিত রোগের কারণে। আজকের দিনে শুধু ম্যালেরিয়া নয়, মশা থেকে আরও ভয়ঙ্কর সব রোগের জন্ম হচ্ছে। এসব রোগের মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা অন্যতম। ধারণা করা হয়, মশার হাত ধরে ডেঙ্গুজ্বর হাজার বছর আগেই পৃথিবীতে এসেছিল। তবে জিকা ও চিকুনগুনিয়া সর্বপ্রথম চিহ্নিত করা হয় ১৯৫২ সালে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আরও ধ্বংসাত্মক রূপে হাজির হচ্ছে ক্ষুদ্র মশা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি মানুষ মশার জন্য মৃত্যুঝুঁকিতে পড়বে।

মশার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ প্রজাতি আছে। এর মধ্যে অল্প কিছু প্রজাতিই কেবল মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীকে কামড়ায়। আর মজার বিষয় হচ্ছে পুরুষ মশারা কখনো কামড়ায় না, কামড়ানোর প্রয়োজন হয় না। কেননা তারা মানুষ বা প্রাণীর রক্ত খেয়ে বাঁচে না। সন্তান জন্মের প্রক্রিয়া না চললে তখন নারী মশারাও আর রক্ত পান করে না।
প্রশ্ন জাগে তাহলে এত মশা কামড়ায় কীভাবে? অবাক করা তথ্য হচ্ছে, একটি মশা ১২ লাখ কামড় দিতে পারে এবং প্রতিটি কামড় থেকেই রক্ত শোষণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে প্রতিবছর মশাবাহিত রোগে ৭০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে মারা যাচ্ছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৮০০ মানুষ।

মশা কেবল মানুষকে কামড়ায় না। এ ছাড়া আরও অনেক প্রাণীর রক্ত পান করে মশা। এটা নির্ভর করে তাদের প্রজাতির ওপর। এই যেমন কিউলিসেতা মেলানুরা প্রজাতির মশা পাখির রক্ত পান করে বেঁচে থাকে।

মজার ব্যাপার হলো, ১৮৯৭ সালের আগে মানুষ জানতই না যে, ম্যালেরিয়া রোগটি মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সে সময় ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ ডাক্তার স্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে, অ্যানোফিলিস মশা এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। এর আগে মানুষ মিয়াজমা তত্ত্বে বিশ্বাস করত। এই তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের বিশ্বাস ছিল কলেরা ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলো হয় ‘মিয়াজমা’র কারণে। বাতাসে ভাসতে থাকা মিয়াজমা মিয়াজমা কথা উৎপন্ন হয় আমাদের আশপাশের পচে যাওয়া জৈব পদার্থের উৎকট গন্ধ থেকে। ফলে জ্বরের জীবাণু বাতাসে ভর করে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারে। মানুষ ভাবত, ম্যালেরিয়া হলো মন্দ বাতাসের ফল। ক্ষুদ্র কিট মশা যে এই রোগের বাহক, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ জানত না।

মশা কেবল কামড়ায় না, একই সঙ্গে নানারকম জীবাণু, যেমন জিকা, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি বহন করে। ফলে এর কামড়ে মানুষ মারাও যায় বেশি।

 


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD