মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৬:১২ অপরাহ্ন

তওবা নিয়ে ভুল ধারণা

মাওলানা আব্দুল জাব্বার / ৩৪ বার পঠিত
সময় : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১, ৪:০৭ অপরাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সমাজের অনেকের বিশ্বাস হলো ‘মুমূর্ষু কোনো রোগীকে তওবা পড়ানো হলে রোগীর মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়। এ লক্ষ্যে তওবা করানোর জন্য মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন কিংবা কোনো হুজুরকে ডাকা হয়। আর তওবার জন্য যেহেতু অজু জরুরি, তাই অনেক কষ্ট করে রোগীকে অজু করানো হয়।’ এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তওবা মানে মৃত্যু বা জীবনের অবসান নয়। তওবা মানে গোনাহমুক্ত নতুন জীবন। আর তওবার জন্য অজু করতে হয়, এটাও ভুল ধারণা। সেই সঙ্গে তওবা নিজে করার বিষয় নয়; বরং এ জন্য ইমাম-মোয়াজ্জিন কিংবা কোনো হুজুর ডাকতে হয়- এটাও ভুল প্রচলন।

এই ভুল ধারণাগুলোর মূল কারণ অজ্ঞতা, ইসলাম সম্পর্কে না জানা। ইসলামের বিধানমতে, তওবা মানে গোনাহ ত্যাগ করে দয়াময় আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা এবং অন্তর থেকে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন।

বান্দার যখন কোনো গোনাহ হয়ে যায়, তখন তার কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে তওবা ইস্তিগফার করা। অপরাধটি আল্লাহর হক (ইবাদত-বন্দেগি পরিত্যাগ সংক্রান্ত) সম্পর্কিত হলে চারটি কাজ করতে হবে। তাহলে তওবা পূর্ণাঙ্গ হবে। ১. গোনাহর কাজ ছেড়ে দেওয়া। ২. (কৃত পাপের জন্য) লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া। ৩. ভবিষ্যতে এই ধরনের গোনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। ৪. কোনো ফরজ ওয়াজিব ছুটে গিয়ে থাকলে মাসয়ালা অনুযায়ী তার কাজা বা কাফফারা আদায় করা।

আর অপরাধটি যদি বান্দার হক (মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন বিষয়ক) সংক্রান্ত হয়, তাহলে আরও একটি কাজ করতে হবে। যার অধিকার নষ্ট করা হয়েছে, তার অধিকার আদায় করে কিংবা ক্ষমা গ্রহণ করে দায়মুক্ত হতে হবে। এভাবে আল্লাহর কাছে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করার নাম তওবা।

আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা, কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনা নিজের ভাষায় করা যায়। তেমনি হাদিস শরিফে তওবা ইস্তিগফারের যে দোয়াগুলো বর্ণিত আছে, সেগুলো পড়েও তওবা ইস্তিগফার করা যায়।

এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে যে কথাগুলো বোঝা যায়, তা হলো-

এক. তওবা করা তারই দায়িত্ব, যে গোনাহ করেছে। নিজের গোনাহর জন্য নিজেকেই অনুতপ্ত হতে হবে এবং আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। কোনো নেক বান্দার কাছ থেকে তওবা ইস্তিগফারের নিয়ম জেনে নিয়ে তার বলে দেওয়া শব্দ উচ্চারণ করেও তওবা করা যায়, কিন্তু তওবার জন্য এটি জরুরি নয়। তাই তওবা নিজে করা যাবে না, কারও মাধ্যমে করাতে হবে এই ধারণা ঠিক নয়। তেমনি তওবার ক্ষেত্রে উল্লিখিত শর্তগুলো পালন না করে শুধু কারও বলে দেওয়া তওবার বাক্যগুলো উচ্চারণ করলেই তওবা হয় না। তওবা হলো মুমিন জীবনের সার্বক্ষণিক আমল।

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু ইলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও দিনে সত্তর থেকে একশ’ বার ইস্তিগফার করতেন বলে একাধিক হাদিসে এসেছে।

দুই. তওবার জন্য অজু অপরিহার্য নয়। তবে কেউ যদি সালাতুত তওবা বা তওবার নামাজ আদায় করতে চায়, তাহলে অন্য নামাজের মতোই তাকে অজু করতে হবে। এ প্রসঙ্গে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ কোনো গোনাহ করে ফেলে অতঃপর পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করে নামাজে দাঁড়ায় এবং আল্লাহর কাছে মাফ চায় তাহলে আল্লাহ তার গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

অতঃপর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরআনে কারিমের আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ‘এবং তারা সেই সব লোক, যারা কখনো কোনো মন্দ কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গোনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর কে আছে আল্লাহ ছাড়া, যে গোনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মের ওপর অবিচল থাকে না।’ সুরা আলে ইমরান : ১৩৫, তিরমিজি : ৩০০৬

তবে সাধারণ তওবার জন্য অজু জরুরি নয়। আর তওবাকে মৃত্যু ত্বরান্বিতের কারণ মনে করা, অজু ছাড়া তওবা হয় না কিংবা অন্যের সহযোগিতা অপরিহার্য ইত্যাদি হচ্ছে ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন ধারণা।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD