শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৫ অপরাহ্ন

স্যার ও ম্যাডাম শব্দ নিষিদ্ধ ভারতের কেরালায়

ডেস্ক রিপোর্ট: / ৭০ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:২৪ অপরাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্বোধনের ক্ষেত্রে ‘স্যার’ ও ‘ম্যাডাম’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ভারতের কেরালার একটি পঞ্চায়েত। রাজ্যের পালাক্কাদ জেলার মাথুর গ্রাম পঞ্চায়েত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দপ্তরে আর এমন শব্দ ব্যবহার করা হবে না। ভারতের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার পঞ্চায়েতের এক বিশেষ সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই পঞ্চায়েত অফিসে যাওয়া লোকজনের সেখানকার কর্মকর্তাদের আর ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনের প্রয়োজন পড়বে না। সংশ্লিষ্টদের নাম বা পদবি ধরে ডাকতে পারবেন সেবাগ্রহীতারা। সম্বোধনের সুবিধার্থে সব কর্মকর্তার টেবিলে তাদের নাম ও পদবি লেখা থাকবে। বয়স্ক কোনো কর্মকর্তাকে নাম বা পদবি ধরে সম্বোধনে অস্বস্তি হলে তাকে চেতা (বড় ভাই) অথবা চেচি (বড় বোন) বলে ডাকা যাবে।

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ উপনিবেশের অবসান ঘটলেও এ অঞ্চলের সংস্কৃতিতে এখনো তাদের প্রভাব রয়ে গেছে। দাপ্তরিক কাজে ব্যক্তি অভিবাদনে ‘স্যার-ম্যাডাম’ ডাকার প্রচলনও তারই অংশ। মূলত এমন বিবেচনা থেকেই এমন সম্বোধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মাথুর পঞ্চায়েতের সহ-সভাপতি পি আর প্রসাদ বলেন, ‘ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের ৭৫ বছর চলছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের আধিপত্য দেখানোর সময় এসেছে।’

পঞ্চায়েতের দপ্তরের বাইরে একটি নোটিসও টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা যদি স্যার বা ম্যাডাম না বলায় কোনো অসদাচরণ বা কটু বাক্য ব্যবহার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে যেন পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে বিচার দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পি আর প্রসাদ বলেন, ‘গণতন্ত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হলো সেবক, আর জনগণ হলো চূড়ান্ত কর্র্তৃপক্ষ। মানুষের তাদের অধিকারের জন্য আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ঠিক নয়।’

মাথুর পঞ্চায়েত প্রেসিডেন্ট প্রবিথা মুরালিধরন জানান, জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দূরত্ব কমানোর এটা একটি সাহসী পদক্ষেপ। পঞ্চায়েতের কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে আমাদের মধ্য থেকে ঔপনিবেশিক মানসিকতা কমে তা বন্ধুত্বে রূপ নেয়। এই সিদ্ধান্তে জনগণ থেকে শুরু করে কর্মচারীরা পর্যন্ত উপকৃত হবেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD